পবিত্র কাবার আদলে সৌদি আরবের নতুন শহর !

maxresdefault
জীবনযাপন

পবিত্র কাবার আদলে সৌদি আরবের নতুন শহর !

সৌদি আরবের প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, দেশটির রাজধানী রিয়াদে সম্পূর্ণ নতুন এক শহর গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। উত্তর আধুনিক এই শহরের নাম The New Murabba। এই শহরের কেন্দ্রস্থলে Mukaab নামে একটি ভবন নির্মান করা হবে। মুরাবা শহরের প্রধান আকর্ষণ মুকাব ভবনটিকে এমনভাবে নির্মান করা হবে যে, এর ভেতরে প্রবেশ করলে মনে হবে আপনি যেন অন্য কোন নতুন দুনিয়ায় প্রবেশ করেছেন। মুকাব ভবনটি এত বড় যে, দীর্ঘ ৪০ বছর পৃথিবীর সর্বোচ্চ ভবনের খেতাব ধরে রাখা, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং এর সমান ২০টি ভবন এর ভেতর অনায়াসে এটে যাবে। মুকাব নির্মান সম্পন্ন হলে, এটিই হবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অবকাঠোমো। তবে এই প্রকল্প ঘোষণার সাথে সাথেই মুকাব নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। অনেকেই মনে করছেন ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র স্থাপনা কাবা ঘরের আদলে, এই বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে।

পবিত্র কাবা ঘরের আদলে সৌদির নতুন বিনোদন কেন্দ্র !

সৌদি আরব খনিজ তেলের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবং সামগ্রীক অর্থনীতিকে আরো বৈচিত্রময় করতে সৌদি ভিশন ২০৩০ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে সৌদি আরব তাদের অর্থনীতি কে তেলের বদলে পর্যটনের উপর নির্ভরশীল করানোর পরিকল্পনা করছে। তারই অংশ হিসেবে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান কল্প কাহিনীকে বাস্তবে পরিণত করার মত একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর আগে নিয়ম প্রকল্প নামে এক মহা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। নিওম প্রকল্পের অধীনে তিনটি নগর অঞ্চল পরিকল্পনাধীন রয়েছে। ১. দা লাইন ২. অক্সাগন এবং ৩. ট্রোজেনা। নির্মাতারা নিয়ম প্রকল্পের শহর গুলোকে শুধু স্মার্ট সিটি বলতে রাজি নন। তারা বলছেন এগুলো হতে যাচ্ছে পৃথিবীর সর্বপ্রথম কগনেটিভ সিটি। অর্থাৎ এমন শহর যার নিজস্ব জ্ঞান আছে। নিওম প্রকল্পের শহর গুলো সম্পূর্ণ নতুন অঞ্চলে গড় তোলা হলেও, মুরাবা শহরকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রিয়াদ ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল শহর। ৫০ বছর আগে রিয়াদ ছিল মাত্র ৫ লক্ষ লোকের একটি ছোট শহর। বর্তমানে এই শহরে প্রায় ৭০ লক্ষ লোক বাস করে। বর্তমানে রিয়াদ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের তৃতীয় বৃহৎ শহর। এই শহর কে পৃথিবীর মানচিত্রে আরো বড় করে প্রকাশ করার জন্যই মুরাবা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের দাবি অনুযায়ী, মুরাবা হবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আধুনিক শহরতলি। মুরাবা এলাকার মধ্যে ৮০ টি বিনোদন কেন্দ্র, বেশ কয়েকটি পায়ে হাটার পথ এবং একটি বিশাল জাদুঘর থাকবে। তবে এর প্রধান আকর্ষণ হবে মুরাবার কেন্দ্রে থাকা মুকাব।

আরবি ভাষায় মুকাব অর্থ ঘন বা ঘনক্ষেত্র। অর্থাৎ যার দৈর্ঘ্য প্রস্থ এবং উচ্চতা সমান। মুকাব এক ধরনের অতিকায় আকাশচুম্বী ভবন। দৈর্ঘ্য প্রস্থ এবং উচ্চতা সব দিক থেকেই এটি ৪০০ মিটার প্রশস্ত। এর ভেতরে এত পরিমাণ জায়গা থাকেবে যে, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং এর মত ২০টি বিল্ডিং অনায়াসে এর ভেতরে স্থাপন করা যাবে। মুকাবের কাছে পৃথিবীর অন্য সকল আকাশ চুম্বী অট্টালিকা হার মানবে। ঠিক একই রকমের ঘন আকৃতির একটি ভবন রয়েছে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে। বার্লিন কিউব নামে পরিচিত এই ভবনের প্রস্থ মাত্র ৪০ মিটার। বার্লিন কিউবের মত হাজারটা ভবন মুকাবের ভেতর রাখা যাবে। ওয়াশিংটনে থাকা বোয়িং বিমান ফ্যাক্টরি বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত। মুকাব যদি নির্মান করা যায়, তাহলে এটিই হবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অবকাঠোমো। শুধু তাই নয়, বোয়িং ফ্যাক্টরির মত ৫টি ফ্যাক্টরি মুকাবের ভেতর এটে যাবে। কিন্তু মুকাবের এত জায়গা দিয়ে আসলে কি করা হবে? মুকাব কে এমনভাবে নির্মান করা হবে যেন এর ভেতরে প্রবেশ করলে মনে হয়, আপনি অন্য কোন দুনিয়ায় চলে গেছেন। মুকাব ভবনের ভেতরে একটি অতিকায় গম্বুজ স্থাপন করা হবে। এই গম্বুজটি হবে এক ধরনের বিশাল ডিসপ্লে স্ক্রিন। এখানে বিশেষ ধরনের হলোগ্রাফ্রিক ইমেজ প্রদর্শনের মাধ্যমে, এর বাসিন্দাদেরকে ভিন গ্রহের অভিজ্ঞতা দেওয়া হবে। এক মুহুর্তে মনে হবে আপনি হয়ত কোন সাগরের তলদেশে আছেন, পরক্ষণেই আবার মনে হবে আপনি হয়ত মঙ্গল গ্রহে চলে গেছেন। অথবা অন্য কোন কাল্পনিক পৃথিবীতে আপনি বসবাস করছেন। এই প্রযুক্তির সাহায্যে এমন এক ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা দেওয়া হবে, যা অতি বাস্তব বলে মনে হবে। মুকাব এর গম্বুজের মাঝখানে মাশরুমের মত বহুতল একটি টাওয়ার থাকেবে। এই টাওয়ার টি পৃথিবীর ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্য সবচেয়ে বিলাসবহুল পর্যটন কেন্দ্র হবে। এখানে থাকবে অসংখ্য হোটেল রুম, পর্যবেক্ষন কেন্দ্র এবং সিনেমা হল। এই টাওয়ার এবং গম্বুজকে চারকোনা দেয়াল দিয়ে আবদ্ধ করা হবে। এর চার কোনায় আরো চারটি বিশাল আকৃতির আকাশচুম্বী অট্টালিকা থাকবে। যার মধ্যে সকল ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা রাখা হবে। মুকাবের উপরে হবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ছাদ। এই ছাদে কৃত্রিম হ্রদ এবং গাছ পালা থাকবে।

মুকাব কে বলা হচ্ছে রিয়াদের নতুন চেহারা। এর মাধ্যমে রিয়াদ শহরের এক অনুপম ল্যান্ডমার্ক তৈরী করা সম্ভব হবে। যা দেখলেই মানুষ বুঝতে পারবে এটি রিয়াদ শহর। ‍ঠিক যেমনটি ঘটে দুবাই এর বুর্জ খলিফা, প্যারিসের আইফেল টাওয়ার এবং নিউ ইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টির ক্ষেত্রে। কিন্তু মুকাবের এই আকৃতির কারণেই এটি সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে। মক্কা নগরতে থাকা পবিত্র কাবার শরীফের আকৃতির সাথে সামঞ্জস্য থাকার কারণে অনেকেই বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। তবে পবিত্র কাবার সাথে সামঞ্জস্যের বিষয়টি নাকি সম্পূর্ণ কাকতালীয়। মুকাবে ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য কি ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, সে সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। কারণ এই ধরনের প্রযুক্তি এখনও আবিষ্কৃতই হয়নি। Light Field Lab নামের একটি কম্পানি এই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। কিন্তু মুকাবের মত এত বড় আকারে তা নির্মান করা এখনও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মত বিষয়। এরকম একটি প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে নির্মানাধনি রয়েছে। MSG Sphere নামের এই বিনোদন কেন্দ্রের ভেতরের সম্পূর্ণ দেয়াল স্কিনের সাহায্যে মোড়া হয়েছে। ১৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই পর্দা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্ক্রিন হতে চলেছে। কিন্তু মুকাবের ভেতরে যে ‍স্ক্রিন থাকার কথা বলা হয়েছে, তার জন্য MSG Sphere এর চেয়ে ২০ গুণ বড় স্ক্রিন নির্মান করতে হবে। এত বড় স্ক্রিন নির্মান করা আসলেই সম্ভব কিনা, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। শুধু স্ক্রিন নয়, মুরাবার মত এই মহাপ্রকল্প নির্মান করা কি সত্যিই সম্ভব? ঘোষণা অনুযায়ী আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মুরাবা প্রকল্পের নির্মান করা শুরু হতে যাচ্ছে। সৌদি আরবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী  ২০৩০ সালেই এই শহর সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। কিন্তু ২০৩০ সালের মধ্যে এতগুলো মহাপ্রকল্প সৌদি আরব কিভাবে বাস্তবায়ন করবে সেটাই দেখার বিষয়। কারণ দ্যা লাইন, অক্সাগন এবং ট্রোজেনা শহরগুলোও অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ। শুধু মাত্র দা লাইন শহরেরই বাজেট ধরা হয়েছে ৫০০ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া মরুভূমির মধ্যে তুষারপাত ঘটানোর মত কৃত্রিম প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পন্ন পার্বত্য অঞ্চল ট্রোজেনা এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভাসমান অবকাঠামো অক্সাগন তৈরী করতে অবিশ্বাস্য রকমের বাজেট দরকার। সৌদি আরবের কল্প কাহিনীর মত আলাদা আলাদা তিনটি শহর নির্মাণ প্রকল্প নিওম প্রজেক্ট  সম্পর্কে জানতে চাইলে, কিকেনকিভাবে র এই ভিডিওটি দেখতে পারেন।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *


দিন
ঘণ্টা
মিনিট
সেকেন্ড
আমাদের লাইভ ক্লাস শেষ হয়েছে, তবে আপনি এখন ফ্রি রেকর্ডেড কোর্সে ইনরোল করে দেখতে পারবেন।
আপনার রেজিস্ট্রেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

আপনার জন্য একটি একাউন্ট তৈরি হয়েছে। প্রদত্ত ইমেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

কোর্সের তারিখ: ০৩/১০/২০২৫
সময়: রাত ৯টা থেকে
(বাংলাদেশ সময়)

আপনার সঠিক - নাম, ইমেইল দিয়ে
Sign Up এ ক্লিক করুন।