মার্কিন ভিসা নীতি
মার্কিন ভিসা নীতি
বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের কাছে অভিবাসন এবং ভ্রমণ গন্তব্যের তালিকায় থাকা শীর্ষ দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। উন্নত জীবনযাপনের আশায় আমেরিকান ড্রিম নিয়ে প্রতি বছর বহুসংখ্যক বাংলাদেশী যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরোর র্সবশষে তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের শেষে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার। তবে নতুন করে বাংলাদেশীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নতুন ভিসা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই নীতির অধীনে, যারা বাংলাদেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বাঁধা সৃষ্টি করবে, তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতির লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. ব্লিঙ্কেন এই ভিসা নীতি সম্পর্কে বলেছেন, এই নীতির আওতায় যেকোনো বাংলাদেশি ব্যক্তি যদি সে দেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের প্রক্রিয়া ব্যাহত করার জন্য দায়ী হন বা এ রকম চেষ্টা করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে ভিসা দেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এর আওতায় পড়বেন বর্তমান এবং সাবেক বাংলাদেশি কর্মকর্তা, সরকার-সমর্থক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সদস্যরা।
গণতান্ত্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে, এমন কাজের মধ্যে রয়েছে ভোট কারচুপি, ভোটারদের ভয় দেখানো, জনগণকে সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারচর্চাকে সহিংসতার মাধ্যমে বাধাদান। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, ভোটার, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমকে তাদের মতামত প্রচার করা থেকে বিরত রাখতে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড, নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার পদক্ষেপের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এই ভিসা নীতির আরো বেশ কিছু ব্যাখ্যা তুলে ধরেছে। এই নীতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত যেকোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্য অনেকের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান বা সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারের সমর্থক এবং বিরোধীদলীয় সদস্যরা এর অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের ব্যক্তিদের নিকটতম পরিবারের সদস্যরাও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। দায়ী ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা নিষেধজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতা ও আমলাদের বেগমপাড়াকেন্দ্রিক জীবন যাপনে বাঁধা সৃষ্টি করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ডলার পাচার, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কিংবা অবৈধভাবে অর্থ প্রেরণ এবং বেগম পাড়ায় থাকা পরিবারের সদস্যদের সুখের জীবনে ভিসা জটিলতা সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের একটি বিশেষ ধারা অনুযায়ী নতুন এই ভিসা নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার যেকোনো সময় যেকোনো ব্যক্তিকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। তার জন্য সরকারের আলাদা করে কোনো ঘোষণা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে নির্বাচন কেন্দ্রিক নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই প্রথম নয়। অতীতে নাইজেরিয়া এবং উগান্ডার নির্বাচনের ব্যাপারেও একই ধরনের ভিসা নীতি প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে পার্থক্য হল, নাইজেরিয়া ও উগান্ডার নির্বাচন হওয়ার পরে সেসব দেশের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নীতি ঘোষণা করা হলো সম্ভাব্য নির্বাচনের অন্তত সাত মাস আগে।
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এত চিন্তিত কেন? এর উত্তরে মার্কিন দূতাবাস বলে, যুক্তরাষ্ট্র সর্বত্র অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে সমর্থন করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকার বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার অঙ্গীকার করেছে। মার্কিন এই ভিসা নীতি সেই প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার এবং বাংলাদেশের জনগণকে সাহায্য করার জন্যই প্রণয়ন করা হয়েছে।